শরীরে বল ছিল যখন তখন দু’পায়ে রিক্সা ঠেলে গরীব দুঃস্থ পড়ুয়াদের সহযোগীতা করেন

বিনয় আগরওয়াল দক্ষিন দিনাজপুর: শরীরে বল ছিল যখন তখন দু’পায়ে রিক্সা ঠেলে গরীব দুঃস্থ পড়ুয়াদের সহযোগীতা করেছিলেন। এখন বয়স হয়েছে। বয়স প্রায় ৮০ ছুঁইছুঁই। শরীরে বলও নেই আগের মত আর। নিজে উপার্জন করে দুঃস্থ পড়ুয়াদের সহযোগীতা করা বা তাদের পাশে থাকার মত সামর্থ্য এখন নেই। তবে কেউ অর্থের অভাবে পড়াশুনা করতে পারছে না তা শুনলে চুপচাপ ঘরে বসে থাকতে পারেন না পেশায় রিক্সা চালক স্বপন অধিকারী। তাই বিভিন্ন সময় পাওয়া পুরস্কারের জমা অর্থ দিয়ে এখন দুঃস্থ পড়ুয়াদের সাধ্যমত সহযোগীতা করেন। শুক্রবার বালুরঘাট থানার নাজিরপুর হাই স্কুলের ৪০ জন পড়ুয়ার হাতে বই খাতাপত্র তুলেন দেন স্বপনবাবু। সঙ্গে ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ, স্কুল শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে বিশিষ্টজন।
বালুরঘাট থানার পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের পোল্লাপাড়া এলাকায় বাড়ি স্বপন অধিকারীর(৭৬)। পেশায় তিনি রিক্সা চালক। প্রায় ২০ বছর ধরে বালুরঘাট শহরে রিক্সা চালাতেন। বয়সজনিত কারণে বছর কয়েক থেকে তিনি আর রিক্সা চালান না। দুই ছেলে সংসার চালায়। রিক্সা চালানোর সময় এক যাত্রীর ব্যাগ ভর্তি টাকা পেয়ে তা তিনি ফেরত দিয়েছিলেন। এরপর থেকে সমাজ সেবায় ব্রতি হন তিনি। রিক্সা চালিয়ে যে অর্থ উপার্জন করেন তার বেশীর ভাগটাই দুঃস্থ পড়ুয়াদের সহযোগীতা করতেন। সমাজ সেবী হিসেবে তিনি পুরস্কারও পেয়েছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে। বয়সজনিত কারণে বছর দুয়েক থেকে আর রিক্সা চালাতে পারেন না তিনি। এদিকে দুঃস্থ পড়ুয়ারা অর্থ বা বই খাতার জন্য পড়াশুনা করতে পারছেনা। এমন খবর শুনলেন নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননা। নিজে উপার্জন করতে না পারলে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া পুরস্কারের অর্থ দিয়ে আজও তিনি সাহায্য করে চলছেন।
এদিন নাজিরপুর হাইস্কুলের ৪০ জন দুঃস্থ পড়ুয়াকে বই খাতা পেন দিয়ে সাহায্য করেন। এদিন স্কুলে একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুঃস্থ পড়ুয়াদের হাতে সব তুলে দেওয়া হয়। যেখানে হাজির ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।
এবিষয়ে বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ জানান, মানুষ তো এখন স্বার্থ ছাড়া কোন কিছু করে না। সেখানে স্বপনবাবু যে ভাবে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে চলছেন তা এক অনন্য নজির ও দৃষ্টান্ত। এমন দৃষ্টান্ত খুব বেশি দেখা যায় না। ওনাকে দেখে আর সকলেও এগিয়ে আসুক বলে আর্জি জানিয়েছেন সাংসদ।
স্বপন অধিকারী জানান, রিক্সা চালিয়ে আগে দুঃস্থ পড়ুয়াদের সাহায্য করতেন। বই খাতা পেনের জন্য কারও পড়া আটকে থাকবে সেটা তিনি মেনে নিতে পারেন না। তবে আজ কাজ করতে না পারলেও বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া পুরস্কারের টাকা দিয়ে তিনি আজও সাহায্য করে চলছেন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *