মদের দোকানে ঢুকে মানুষের ভাংচুরের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা বালুরঘাট শহরের

বিনয় আগরওয়াল দক্ষিন দিনাজপুর:মদের দোকানে ঢুকে মানুষের ভাংচুরের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা বালুরঘাট শহরের একে গোপালন কলোনী এলাকায়। পুলিশ জনতার খন্ডযুদ্ধে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। একদিকে পুলিশের লাঠিচার্জ অপরদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি। ভাংচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়িও। জনতার ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হন বালুরঘাট থানার আইসি সঞ্জয় ঘোষ সহ কয়েক জন পুলিশ কর্মী। ইটের আঘাতে কয়েকজন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি আহত হয়েছেন। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ ঘটনাস্থলে যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশিস নন্দীর নেতৃত্বে চলে ধর পাকর। বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ ।

জানাগেছে, বালুরঘাট লোকসভার সাংসদ অর্পিতা ঘোষের নিরাপত্তারক্ষী শ্যামল সরকারের মদের দোকানে ভাংচুরের থেকে ঘটনার সূত্রপাত । পেশায় পুলিশ কর্মী শ্যামলবাবু একে গোপালন কলোনীতে নতুন বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেছেন। মাস দুয়েক আগে দোকানটি চালু করেন তিনি। ১০ লক্ষ টাকার মদ তোলেন সেখানে। জন বসতিপূর্ন ওই এলাকায় মদের দোকান খোলার প্রতিবাদে মংগলবার ধুন্ধুমার কান্ড। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার উলটো দিকে রয়েছে একটি মন্দির। আবার কিছু দূরেই রয়েছে অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র। সেখানে মদের দোকান খোলায় দিন কয়েক ধরেই ফুঁসছিলো এলাকার মানুষজন। অভিযোগ, তৃণমূল নেতা তথা বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষের নিরাপত্তারক্ষী হওয়ায় সহজেই এই লাইসেন্স পেয়েছে শ্যালল সরকার।
দোকান মালিক তথা পুলিশ কর্মী শ্যামল সরকার জানান, মাস দুয়েক আগে থেকেই খোলা রয়েছে দোকানটি। সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত মদের দোকান তার। তিনি বাইরে ছিলেন এদিন। দুপুরে তার কাছে খবর যায় যে, তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তার স্ত্রীকে মারধোরের পাশাপাশি দোকান ভাংচুর ও লুঠ চালানো হয়। তাকে খুন করার পরিকল্পনা ছিল। ক্ষতি হয়েছে দশ লক্ষ মদ ও নগদ দুই লক্ষ টাকা।

অন্যদিকে, নাম জানাতে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, এলাকায় তারা কোন মদের দোকান খুলতে দেবেন না। এনিয়ে তারা পুলিশকে লিখিত আকারে জানিয়েছেন।

বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ জানান, বিষয়টি পুলিশকে দেখতে বলা হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মদের দোকান কি করে হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তার নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব থেকে শ্যামল সরকারকে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে পুলিশকে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *