দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ বোর্ড তৃণমূলের

বিনয় আগরওয়াল দক্ষিন দিনাজপুর:সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচিত হলেন গংগারামপুরের লিপিকা রায়। সহ সভাধিপতির দায়িত্ব দেওয়া হল প্রাক্তন সভাধিপতি ললিতা টিগগাকে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া তৃণমূল কংগ্রেস বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন করে। এবারে এই জেলা পরিষদের আসনটি এসসি (তফশিল জাতি) মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিলো। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূলের চারজন নির্বাচিত এসসি মহিলা প্রার্থী দৌড়ে ছিলেন সভাধিপতির।

জানাগেছে, এই জেলা পরিষদের মোট আসন ১৮ টি। এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধী শূন্য ভাবেই সব কটি জেলা পরিষদ আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। এর আগেই জেলার আটটি পঞ্চায়েত সমিতিও দখল করেছে তৃণমূল। এছাড়াও ৬৪ গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৪৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করে ঘাসফুল শিবির। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনের পরেই জেলা জুড়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি নিয়ে। কেননা ওই আসনটি সংরক্ষণের ফলে চার জয়ী মহিলা প্রার্থীর মধ্যে গঙ্গারামপুরের লিপিকা রায়, কুমারগঞ্জের ইরা রায়, হিলির গৌরি মালি এবং কুশমণ্ডির মিঠু জোয়াদ্দার ছিলেন এই দৌড়ে। তবে এদের মধ্যে কিছুটা হলেও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে গঙ্গারামপুর জেলা পরিষদ ৩ নম্বর আসনের নির্বাচিত প্রার্থী লিপিকা রায়। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি তৃণমূল সমর্থক। গঙ্গারামপুরের সুকদেবপুর, জাগাঙ্গিরপুর এলাকার সক্রিয় নেত্রী তিনি। এছাড়াও এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছেন লিপিকা রায়। বুধবার বোর্ড গঠনের আগে জেলা পরিষদের সমস্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়ে বালুরঘাটে একটি আভ্যন্তরীন বৈঠক করেন তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র। সেখানেই চূরান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির নাম। পরে জেলা পরিষদে আনুষ্ঠানিক ভাবে নামগুলি ঘোষনা করা হয় প্রশাসনিক ভাবে। শেষে জেলা পরিষদ প্রাংগনে সকল নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য ও পদাধিকারীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা উত্তরবংগ উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য বিপ্লব মিত্র, নেত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা সহ অনান্যরা।

জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত সভাধিপতি লিপিকা রায় বলেন, সকলকে নিয়ে তিনি কাজ করবেন জেলার উন্নয়নে। এই প্রথম এত বড় দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রশাসনিক এই দায়িত্ব পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি।

তণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র জানান, সব দিক বিবেচনা করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে প্রাক্তন সভাধিপতিকে সহকারি সভাধিপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার বিগত ৫ বছরের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে। তাদের নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠন হওয়া এই বোর্ড বিরাট কর্ম কর্মযজ্ঞে সামিল থাকছে বলে জানান বিপ্লব বাবু।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *