সুরের সাধনায় পঞ্চাশ বছর অতিক্রম

 

নিজস্ব সংবাদদাতা : কল্যাণ সেন বরাট।শিল্প-সাধনার বিরল ব্যক্তিত্ব।দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে ভারতীয় শিল্পকলায় স্বকীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নীরবে।সঙ্গীত তাঁর কাছে শুধু সুরের রাগরাগিণী নয়,ভাবের রাগরাগিণী।এই ভাবকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন পঞ্চাশ বছর ধরে সাবলীলভাবে। শুধু সঙ্গীত নয়,বাদ্যযন্ত্রে তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ।পিয়ানো অ্যাকোডিয়ানে তাঁর অবাদ যাতায়াত শৈশব থেকেই।শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন শচীন দাস মতিলালের কাছে।হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সান্নিধ্যে লোকগানের চর্চা করেছেন।সলিল চৌধুরির সাহচর্যে শিখেছেন সুরের গোপন রহস্য।১৯৭৬ সালে চাকরিসূত্রে আসানসোলে থাকাকালীন “ঐক্যতান “নামক গানের দল প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে তাঁর সঙ্গীত জীবনের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।তবে এর আগে ১৯৬৯ সালে” তুমি ভালোবাসা দিয়ে”,”যৌবনে মৌমাছে”,এবং” চারিদিকে দেখি” এই তিনটি গানে সুর সংযোজন করেণ।তখন বয়স মাত্র আঠেরো।এরপর অভিনব সুর সৃষ্টির পাশাপাশি সঙ্গীতের স্বরলিপি সৃজনে তিনি মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়ে চলেছেন ক্রমাগত।সঙ্গীত এবং নৃত্য আঙ্গিকে তিনি লোকায়ত শিল্পশৈলীকে কাজে লাগিয়েছেন দক্ষতার সঙ্গে।তাঁর শিল্প সাধনা শুধু বিনোদন নয়,বিবেকের জাগরণ। তিনি শান্তি, ভালোবাসা এবং সম্প্রীতির বার্তা মানুষের মনে চারিয়ে দিতে চেয়েছেন সুরের সহজতায়।অজস্র বাংলা আধুনিক গানে সুর আরোপ করেছেন। বাংলা সিনেমায় সুর করেছেন।”চেতনা “র “জগন্নাথ ” এবং “মারীচ সংবাদ”এর সিনেমা সংস্করণে সুর সংযোজন করেছেন।হিন্দি সিনেমায় সুর করেছেন।পরিচালক প্রকাশ ঝার “দিদি” সিনেমায় সুরারোপ করেছিলেন।তাঁর সুরে কন্ঠ মিলিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। ।বাংলা নাটক এবং যাত্রায় সুর সৃষ্টিতে তিনি অনন্য নজির রেখেছেন।রঙ্গনা,সারকারিনা,রঙমহলে সে সময়ে প্রযোজিত প্রায় প্রতিটি নাটক তাঁর সৃষ্ট সুরে ঝঙ্কৃত হয়েছে।প্রায় ৩০০ সিরিয়ালে সুর সংযোজন করেছেন।” সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ” নান্মী সিরিয়ালের তিনি ছিলেন পরিচালক।দূরদর্শনেরর বিখ্যাত সিরিয়াল “পোটলীবাবা কি”তে সুর ক্ষেপনে তিনি অনন্য দক্ষতা রেখেছেন । সঞ্জীত ঘোষ পরিচালিত এই পাপেট শো- এর গান লিখেছিলেন গুলজার সাহেব। সারা ভারতে এই সিরিয়াল যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল।তাঁর মানস কন্যা “ক্যালকাটা কয়্যার “সঙ্গীত এবং নৃত্যের হরগৌরী মিলনে বিনোদন-শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। নাট্যচর্চায়ও স্বকীয় প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিন।শিশু- কিশোরের মনের উপযোগী ধ্রুপদী সাহিত্যের নাট্যরূপ প্রযোজিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি।”গুপী বাঘার কান্ড “৬০০ অভিনয় ইতিমধ্যে মঞ্চস্থ করে ফেলেছে।এছাড়া “আলিবাবা”,’ঠাকুরমার ঝুলি”,বাঙালি মননে চির স্থায়ী আসন দখল করে আছে।সাম্প্রতিক প্রযোজনা “ক্ষীরের পুতুল “এক ধ্রূপদী সৃষ্টি।সবমিলিয়ে সুস্থ সংস্কৃতির এক কিংবদন্তী হলেন কল্যাণ সেন বরাট।তাঁর সঙ্গীত সাধনার অর্ধ শতাব্দী এ বছর পূর্ণ হচ্ছে।সেই উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। calcutta choir কিছুদিনের মধ্যে সমাপ্তি অনুষ্ঠান করতে চলেছে।আপনাদের সহযোগিতা চাই।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *